আযান ও এক্বামতের কালেমা সংখ্যা

আযান আর এক্বামতের কালেমা সংখ্যা (ক্বাদক্বা মাতিছ ছালা ব্যতীত) কি একই?
অনেকেই এক্বামতে আযানের সমান সংখ্যক কালেমা দিয়ে থাকে অর্থাৎ আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুূলুল্লাহ, হাইয়া আলাছ ছালা-হ, হাইয়া আলাল ফালাহ্ প্রতিটি কালেমাই ২বার তথা আযানের অনুরুপ দিযে থাকে! এটা কি আদৌ সঠিক? আসুন দেখি এ ব্যাপারে হাদিছে কি বলা হয়েছে।

রাসুূলুল্লাহ(ছাঃ) ই বা কি বলেছেন! **হযরত আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রাঃ) কে রাসুূলুল্লাহ (ছাঃ) সর্বপ্রথম ‘এক্বামত’ দিতে বলেন আর বেলাল (রাঃ) কে ‘আযান’ দিতে বলেন। যেই এক্বামতে কালেমা সংখ্যা ছিল ১১টি। যথা:
১.আল্লাহু আকবার(২বার).
২.আশহাদু আল্লাহ্ ইলাহা ইল্লাল্লাহু (১বার).
৩.আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসুূলুল্লাহ (১বার).
৪.হাইয়া আলাছ ছালা-হ(১বার).
৫.হাইয়া আলাল ফালাহ্ (১বার).
৬.ক্বাদকা মাতিছ ছালা(২বার).
৭.আল্লাহু আক্ববার(১বার).
৮.লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (১বার)
=সর্বমোট ১১(আবুদাঊদ হা/৪৯৯)।

আনাস (রাঃ) বলেন’বেলালকে দুবার করে আযান ও একবার করে এক্বামত দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল (মিশকাত হা/৬৪১)’। এইভাবে ইসলামের ইতিহাসে দুবার করে আযান ও একবার করে এক্বামতের প্রচলন শুরু হয়।এখানে দুবার করে আযান বলতে আযানের প্রতিটি কালেমা দুবার করে ও একবার করে এক্বামত বলতে প্রতিটি কালেমা একবার করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে মনে রাখতে হবে যে, দুবার আল্লাহু আকবার কে একটি জোড়া হিসেবে একবার ‘মার্রাতান’ গণ্য করা হয়েছে। তাছাড়া ‘আল্লাহু’ শব্দের হামযাহ্ ‘ওযাছলী’ হওয়ার কারনে প্রথম আল্লাহু আকবারের সঙ্গে পরের আল্লাহু আকবার মিলিয়ে পড়া যাবে। ক্বাদকা মাতিছ ছালা ২বার বলতে হবে কেননা রাসুূলুল্লাহ (ছাঃ) এর যামানায় আযান দুবার ও এক্বামত একবার করে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল, ‘ক্বাদকা মাতিছ ছালা দুবার ব্যতীত (আবুদাঊদ, নাসাঈ, দারেমী,মিশকাত হা/৬৪৩)।’ বিস্তারিত জানতে চাইলে ‘আবুদাঊদ’ পড়তে পারেন সেখানে আযান ও এক্বামতের কালেমা সমূহের যথাযথ বিবরণ দেওয়া আছে (আবুদাঊদ হা/৪৯৯, ছালাত অধ্যায়-২)।

উল্লেখ্য যে, আযান ও এক্বামত দেওয়া সুন্নাত। সুতরাং পরিশেষে বলতে চাই কুরআন ও হাদিছ বেশি বেশি পড়ুন, জানার চেষ্টা করুন কোনটি সঠিক কোনটি ভুল। বংশ পরম্পরায় প্রচলিত নিয়মটিই যে সঠিক এমনটা নাও হতে পারে। আবেগের বশে না যাচাই করুন নিজের জ্ঞানের আলো দিয়ে কুরআন ও হাদিছ পড়ে। আল্লাহ্ সবাইকে হেদায়েত দান করুন-আমিন।

3
0
Mahmud Hasan Joy

Mahmud Hasan Joy

Writing is the way to share ones thought, inner imagination. Showing respect to all the quotes, references holders and holy books which are followed to enrich writing.

One thought on “আযান ও এক্বামতের কালেমা সংখ্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *