কত বছর বয়সে মেয়েদের জন্য,পর্দা করা ফরয হয়?

আসসালামুআলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমরা জানতে যাচ্ছি ইসলামে মেয়েদের পর্দার বিধান সম্পর্কে ।

আসলে ঠিক কত বছর বয়স থেকে একটি মেয়ে পর্দা করবে তার বিধান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, একজন মেয়ে সাবালিকা হওয়ার সাথে সাথে পরিপূর্ণ পর্দা করতে শুরু করবে।   এর জন্য নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই।শারীরিক গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে এবং সাবালিকা হ’লে তার উপর পর্দা ফরয হয়ে যায়।তবে সাবালিকা হওয়ার পূর্ব থেকেই পর্দার অভ্যাস,গড়ে তোলা জরুরি।(ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৭/২১৯)

আমাদের উচিত যখন একটি বাচ্চা শিশু মেয়ে বুঝতে শিখবে ঠিক তখন থেকেই তাকে ধীরে ধীরে পর্দা করতে শিখানো আর উচিত মারহাম, নন মারহাম মেনে চলা।  ছাহাবায়ে কেরাম তাদের শিশুদের,ছালাত ও ছিয়ামের প্রশিক্ষণ দিতেন।এমনকি ছিয়ামরত শিশুদের খেলনা দিয়ে খাবারের কথা ভুলিয়ে রাখতেন।(বুখারী হা/১৯৬০, মুসলিম হা/১১৩৬)

সাধারণতঃ নয় বছর বয়সে মেয়েরা সাবালিকা হয়। যেমন আয়েশা (রা) বলেন, যখন কোন শিশু নয় বছর বয়সে পদার্পণ করে তখন সাবালিকা হয়ে যায়। (তিরমিযী হা/১১০৯)

মাহরাম কি ?

যে সকল পুরুষের সামনে নারীর
দেখা দেওয়া,কথা বলা জায়েজ এবং যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন সম্পূর্ণ হারাম তাদের কে শরীয়তের পরিভাষায় মাহরাম বলে|

মাহরাম কারা?

-সূরা আন নূরের ৩১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নারীর মাহরাম নির্ধারিত করে দিয়েছেন|

গায়রে মাহরাম কি?

যে সকল পুরুষের সামনে যাওয়া
নারীর জন্য শরীয়তে জায়েজ নয়
এবং যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন বৈধ তাদের কে গায়রে মাহরাম বলে|

বস্তুতঃ গায়রে মাহরামের সামনে একান্ত অপারগ হয়ে যদি যাওয়াই লাগে তবে নারী পূর্ণ পর্দা করে সামনে যাবে|

গায়রে মাহরাম কারা?

মাহরাম বাদে সমস্ত বিশ্বে-মহাবিশ্বের যত পুরুষ আছে সব গায়রে মাহরাম!

নিজ পরিবারে চাচাত/খালাত/মামাত/ফুপাত সব ভাই, নিজ দুলাভাই, দেবর, ভাসুর,

(আপন,দাদা ও নানা শ্বশুর বাদে) সমস্ত চাচা মামা-খালু-ফুপা শ্বশুর…নিজ খালু/ফুপা এরা সবাই গায়রে মাহরাম! তাদের সামনে নিজেকে প্রদর্শন করা আল্লাহর হুকুমের অবাধ্যতা করা!

মাহরাম ছাড়া সকল পুরুষের সামনে পর্দা করতে হবে এবং হবেই………………

এক নজরে মাহরাম পুরুষ –

১. স্বামী

(দেখা দেওয়া,সৌন্দর্য প্রদর্শনেরপ্রেক্ষিতে মাহরাম)

২. পিতা, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন পুরুষগণ।

৩. শ্বশুর, আপন দাদা ও নানা শ্বশুর এবং তাদের উর্ধ্বতন পুরুষগণ।

৪. আপন ছেলে, ছেলের ছেলে,মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরসজাত পুত্র সন্তান এবং আপন মেয়ের

স্বামী।

৫. স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র।

৬. আপন ভাই,সৎ ভাই

৭. ভাতিজা অর্থাৎ, আপন ভাইয়ের ছেলে এবং সৎ ভাইয়ের ছেলে।

৮. ভাগ্নে অর্থাৎ, আপন বোনের

ছেলে এবং সৎ বোনের ছেলে।

৯. এমন বালক যার মাঝে মহিলাদের প্রতি

কোন আকর্ষণ নেই।

(সূরা নূর-৩১)।

১০. দুধ সম্পর্কীয় পিতা, দাদা, নানা, চাচা, মামা এবং তাদের উর্ধ্বতন পুরুষগণ।

আশা করি কারো বুঝতে কোন সমস্যা হয়নি। তারপরেও কারো কোন সমস্যা থাকলে বলবেন ক্লিয়ার করার চেষ্ঠা করবো।

আল্লাহ হাফেজ, সবাই ভালো থাকবেন।

4
0
Fozia Sayda

Fozia Sayda

আসসালামুআলাইকুম, আমাদের ওয়েবসাইট এ আপনাকে স্বাগতম। আমি অনার্স তত্বীয় বর্ষের একজন ছাত্রী। আমি মনে করি একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে । আমরা আমাদের আশে পাশে থেকে অনেক বিষয়ে জানতে পারি। অবসর সময়গুলো নষ্ট না করে প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু শিখে যুগের সাথে আমাদের তাল মিলিয়ে চলা উচিত। আমরা আমাদের ওয়েবসাইট এ আপনাদের সহজভাবে কিছু জিনিস শিখানো বা জানানোর চেষ্ঠা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে আমাদের পাশে থাকার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *