তাজমহল ও পীরের মাযার (শিরকের ২য় তীর্থস্থান)

তাজমহল’ সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর স্মৃতিতে মৃত্যুর পরে কবরের উপর(ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে) নির্মাণ করেন। যেখানে প্রতিদিন হাজারো দেশি বিদেশী পর্যটক ঘুরতে যায়। আবার কখনো কখনো স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বলে থাকে শাহজাহান মমতাজের জন্য তাজমহল করেছে তুমি আমার জন্য কি করতে পারবে? এই আবদার তথা কথাগুলো রীতিমত রম্যতা ছাড়া আর কিছুই না। কেননা কবর হবে সাদামাটা এবং সেটাকে কেন্দ্র করে কোনোরকম বাড়াবাড়ি যেমন সেখানে সমাধি সৌধ নির্মাণ করা, টাইলস্ /ফলক/ছবি লাগানো রীতিমত কবর পূজার শামিল।

“কবর এক বিঘতের বেশি উঁচু করা, পাকা ও চুনকাম করা,সমাধি সৌধ নির্মাণ করা, গায়ে নাম লেখা, কবরের উপরে বসা, কবরের দিকে ফিরে ছালাত আদায় করা এগুলি নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড (মুসলিম,মিশকাত হা/১৬৯৬-৯৯; তিরমিযী, মিশকাত হা/১৭০৯)”। অনুরুপভাবে কবরকে ধুয়ে মুছে সুন্দর করা,কবরে মসজিদ নির্মান করা, সেখানে মেলা বসানো, ওরস করা ও কবরকে তীর্থস্থানে পরিনত করা নিষিদ্ধ (মুসলিম,মিশকাত হা/৭১৩)। **রাসূল (ছাঃ) বলেন “তোমরা আমার কবরকে তীর্থস্থানে পরিনত করোনা (নাসাঈ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৯২৬)। **মৃত্যুর পাঁচদিন পুর্বে রাসূল (ছাঃ) তাঁর উম্মতকে সাবধান করে বলেন ”সাবধান! তোমরা কবর সমুহকে সিজদার স্থানে পরিনত করোনা। আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে যাচ্ছি(মুসলিম হা/১২১৬,মিশকাত হা/৭১৩)।

যেখানে স্বয়ং আমাদের রাসূল (ছাঃ) কবরকেন্দ্রীক সবধরনের ইবাদত করতে কঠোরভাবে নিষেধ করে গেছেন সেখানে কিভাব। আমরা মাযারে গিয়ে মানত করি,সিজদা করি। মাযার বাসী কী রাসূল(ছাঃ) এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আল্লাহ্র বান্দা ছিলেন? এসব বিষয় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবলেই গা শিউরে ওঠার কথা যদি আমাদের এতটুকু বোধশক্তি থাকে যে দিনের পর দিন আমরা কি গুনাহে্র কাজ ই না করছি। আল্লাহ্ আমাদের হেদায়েত দান করুন যেনো এইসমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে পারি। আমিন।

2
0
Mahmud Hasan Joy

Mahmud Hasan Joy

Writing is the way to share ones thought, inner imagination. Showing respect to all the quotes, references holders and holy books which are followed to enrich writing.

One thought on “তাজমহল ও পীরের মাযার (শিরকের ২য় তীর্থস্থান)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *